আকিব ও সাবিতের কথাগুলোতে পদ সম্পর্কে যাথাক্রমে যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বর্ণনা প্রকাশ পাওয়ায় উভয়ের মধ্যে পদ সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের বিবৃতি প্রকাশ পেয়েছে।
যৌক্তিক সংজ্ঞা হচ্ছে যথার্থ যুক্তি গঠনের জন্য যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের অর্থকে সুস্পষ্ট করে উপস্থাপন করার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ যৌক্তিক সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো পদের অর্থকে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করা। এ কারণে যৌক্তিক সংজ্ঞায় পদের পূর্ণ জাত্যর্থকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়। তাই সংজ্ঞা হয় সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। এ কারণে সংজ্ঞা সবসময় একই হয়ে থাকে। তাই এটি একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, বর্ণনায় উপলক্ষণ (Proprium) বা অবান্তর লক্ষণ (Accidens) উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট পদের বিবৃতি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করা হয় না। বর্ণনা সুনির্ধারিত বা সুনির্দিষ্ট নয়। তাই বর্ণনা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয় বলে এটি একটি লৌকিক প্রক্রিয়া। এ কারণে সংজ্ঞা ও বর্ণনা একটি থেকে অন্যটি পৃথক।
উদ্দীপকেও দেখতে পাই, আমিন স্যার ক্লাসে আকিবকে 'পদ মানে কী' জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দেয় 'যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত শব্দকে পদ বলে।' এখানে 'পদ' পদটির সম্পূর্ণ গুণ প্রকাশ পেয়েছে। তাই 'এটি যৌক্তিক সংজ্ঞা। কিন্তু সাবিত 'পদ' এর সংজ্ঞায় বলে, 'পদ বলতে সরল-অসরল, জাত্যর্থক-অজাত্যর্থক, সাপেক্ষ-নিরপেক্ষ, সার্বিক-বিশেষ ইত্যাদি পদকে বোঝানো হয়। যুক্তি গঠনের জন্য পদ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।' এখানে 'পদ' এর বিভিন্ন প্রকার উল্লেখ করে সংজ্ঞা প্রদান করায় 'বর্ণনা' প্রকাশ পেয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের আকিবের কথায় 'যৌক্তিক সংজ্ঞা' ও সাবিতের কথাগুলোর দ্বারা 'বর্ণনা' প্রকাশ পাওয়ায় উভয় একে অন্য থেকে ভিন্ন।