দৃশ্যকল্প-১ এ রূপক সংজ্ঞা এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ যৌক্তিক সংজ্ঞার ইঙ্গিত রয়েছে।
যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, 'সংজ্ঞেয় পদটি থেকে সংজ্ঞার্থ পদকে অধিক স্পষ্ট করতে হবে। এজন্য সংজ্ঞায় কোনো রূপক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।' এ নিয়মটি লঙ্ঘন করে কোনো পদের সংজ্ঞায় রূপক ভাষা ব্যবহার করা হলে সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ হবে। এরূপ ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞাই হলো রূপক সংজ্ঞা। যেমন- দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত- চরিত্র মানব জীবনের মুকুট। এখানে 'চরিত্র' পদটিকে রূপক অর্থে 'মানব জীবনের মুকুট' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে দৃশ্যকল্প-১ এ রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে।
অন্যদিকে, যৌক্তিক সংজ্ঞায় একটি পদের আবশ্যিক গুণ উল্লেখ করা হয়। পদের এ আবশ্যিক গুণকে বলা হয় জাত্যর্থ। জাত্যর্থের জন্য সংজ্ঞার আসন্নতম জাতি এবং বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। আমরা জানি, 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'। দৃশ্যকল্প-৩ এ বর্ণিত 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব'- এ বক্তব্যে মানুষ পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে দৃষ্টান্তটি যৌক্তিক সংজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত।
পরিশেষে বলা যায়, রূপক সংজ্ঞা ও যৌক্তিক সংজ্ঞা দুটি ভিন্ন সংজ্ঞা। রূপক সংজ্ঞা ত্রুটিপূর্ণ হলেও যৌক্তিক সংজ্ঞা ত্রুটিমুক্ত। এ কারণেই দৃশ্যকল্প- ২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর মধ্যে ভিন্নতা বিদ্যমান।