কোনো শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি কতকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। একইভাবে উদ্দীপকে উল্লিখিত রমিজের প্রকৃত মজুরিও কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, এসমস্ত বিষয়গুলোই রমিজের প্রকৃত মজুরির ক্ষেত্র। নিচে এসব বিষয় চিহ্নিত করা হলো-
১. দামস্তর : আর্থিক মজুরির পরিমাণ স্থির থাকলে দামস্তরের পরিবর্তনের ফলে প্রকৃত মজুরি কমবেশি হয়ে থাকে। দ্রব্যের দাম বাড়লে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় বলে প্রকৃত মজুরি কমে যায়। পক্ষান্তরে, দাম কমলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে ও প্রকৃত মজুরি বেশি হয় ।
২. অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা : আর্থিক মজুরির সঙ্গে কর্মস্থল থেকে নানারকম সুযোগ-সুবিধা যেমন— বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, রেশন, বেতনসহ ছুটি, পরিবহন ও শিক্ষার সুবিধা ইত্যাদি পাওয়া গেলে সেখানে শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি বেশি হয়। কিন্তু এসব সুবিধা না থাকলে বা কম হলে শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি কম হয়।
৩. কাজের প্রকৃতি : শ্রমিকের কাজ অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক, মর্যাদাকর ও ঝুঁকিহীন হলে সেখানে শ্রমিকের মানসিক শান্তি বেশি থাকায় তার প্রকৃত মজুরি বেশি বলে গণ্য করা হয়। পক্ষান্তরে, বেশি পরিশ্রম সাপেক্ষ, অপ্রীতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শ্রমিকের মানসিক স্বস্তি কমে যায় বলে প্রকৃত মজুরি কম হয়।
৪. কাজের স্থায়িত্ব : চাকরি নিয়মিত ও স্থায়ী হলে সেখানে শ্রমিকের আর্থিক নিরাপত্তা থাকায় শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি বেশি হয় । কিন্তু অনিয়মিত ও অস্থায়ী চাকরিতে শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি কম হয়।
৫. উন্নতির সম্ভাবনা : পদোন্নতির সুযোগ, সাফল্যের জন্য পুরস্কার, পেনশনের ব্যবস্থা প্রভৃতি সুযোগ-সুবিধা থাকলে শ্রমিক চাকরি ক্ষেত্রে মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উৎসাহ অনুভব করে। ফলে তার প্রকৃত মজুরি বেশি হয়। অন্যদিকে, এসব সুযোগ-সুবিধা না থাকলে শ্রমিক অসুখী থাকে বলে তার প্রকৃত মজুরি কম হয়।
৬. কর্মস্থলে পরিবেশ : চাকরিস্থল বা কারখানার পরিবেশ উন্নত স্বাস্থ্যসম্মত ও স্বস্তিকর হলে শ্রমিকরা স্বাচ্ছন্দ্য ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে। ফলে তাদের মানসিক সন্তুষ্টি থাকে বলে প্রকৃত মজুরি বেশি হয়।
উল্লিখিত অন্য সব শ্রমিকের প্রকৃত মজুরির ক্ষেত্রের মতো রমিজের প্রকৃত মজুরির ক্ষেত্রগুলো এগুলোই।