উদ্দীপকের আলোকে অঙ্কিত যোগান রেখার আকৃতির যৌক্তিকতা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-শ্রমের মজুরি ও শ্রমের যোগান পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। শ্রমবাজারে দেখা যায়, শ্রমের মজুরি বাড়লে তার যোগানও বাড়ে; কিন্তু একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত মজুরি বাড়ার পর মজুরি আরও বাড়লে শ্রমের যোগান আর না বেড়ে কমে যায়। তাই দেখা যায়, প্রথমাবস্থায় শ্রমের মজুরি ও শ্রমের যোগানের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিরাজ করলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরি বাড়ার পর মজুরি ও শ্রমের যোগানের মধ্য বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে। এ কারণে শ্রমের যোগান রেখা প্রথমে স্বাভাবিক যোগান রাখার মতো ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হলেও পারে তা বামদিকে ঊর্ধ্বমুখী তথা পশ্চাৎমুখী হয়ে পড়ে। উপরে অঙ্কিত চিত্রের সাহায্যে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো।চিত্রে দেখা যায়, ১০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক ১৪ শ্রমঘণ্টা সরবরাহ করতে রাজি যা চিত্রে a বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত। মজুরি বেড়ে ২০০ টাকা হলে জীবনযাত্রার মান উন্নত করার চেষ্টায় সে শ্রমের যোগান বাড়িয়ে ১৬ শ্রমঘণ্টা করে যা চিত্রে b বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত। মজুরি আরও বেড়ে ৩০০ টাকা হলে জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করার প্রয়াসে সে শ্রমের যোগান বাড়িয়ে ২০ শ্রমঘণ্টা করে। চিত্রে যা c বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত। এর পর মজুরি আরো বাড়লে শ্রমিক অবসর, বিনোদন ও পরিবারের কল্যাণের প্রতি আকৃষ্ট হয় বলে শ্রমের যোগান কমিয়ে দেয়; চিত্রে এ অবস্থা c বিন্দুর পরে d বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত।সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের আলোকে অঙ্কিত যোগান রেখার আকৃতির যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে।