দৃশ্যকল্প-১ এ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ এবং দৃশ্যকল্প-২ এ কৃত্রিম শ্রেণিকরণের দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়। নিচে উভয় শ্রেণিকরণের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো—
প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ওপর নির্ভরশীল। শ্রেণিকরণের সাদৃশ্যের বিষয়গুলো প্রকৃতিতে বিদ্যমান থাকে। এর ফলে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রে বস্তুসমূহকে বিন্যস্ত করার আগে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ অবান্তর ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ শ্রেণিকরণে নির্দেশিত সাদৃশ্যের বিষয়গুলো প্রকৃতি প্রদত্ত নয়, বরং ব্যক্তি নিজের খেয়াল-খুশিমতো সৃষ্টি করে থাকে। যেমনটি করেছে উদ্দীপকের নূপুর। নূপুর তার পড়ার টেবিলে খাতা, কলম, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ এবং গানের বই ভিন্ন ভিন্ন করে সাজিয়ে রাখেছে। এ কাজে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। তাই এটি কৃত্রিম শ্রেণিকরণের দৃষ্টান্ত । প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের মাধ্যমে বস্তুসমূহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় বলে একে বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণও বলা হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বিশেষ উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত। পাশাপাশি এ ধরণের শ্রেণিকরণের মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যবহারিক প্রয়োজন সাধিত হয়। তাই কৃত্রিম শ্রেণিকরণকে ব্যবহারিক শ্রেণিকরণও বলা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যে উদ্দেশ্যগত পার্থক্য বিদ্যমান। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করা এবং কৃত্রিম শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশেষ কোনো ব্যবহারিক সুবিধা লাভ করা।