উদ্দীপকে ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে দাম ব্যবস্থার মাধ্যমে মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, এরূপ সমাধান যথেষ্ট নয়। নিচে এ বিষয়ে মতামত দেওয়া হলো-
দাম প্রক্রিয়ার বদৌলতে ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে স্বার্থপর ও মুনাফাখোর উৎপানকারী/ব্যবসায়ীরা ভোক্তা সাধারণের কাছ থেকে সর্বোচ্চ দাম আদায় করে এবং শ্রমিকদেরকে ন্যূনতম মজুরি দেয়। এর ফলে ভোক্তা ও শ্রমিক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দাম ব্যবস্থা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করে সামাজিক স্বার্থ/কল্যাণের জলাঞ্জলি দেয়। দাম ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে বলা হয়- ভোক্তারা স্বাধীন। প্রকৃতপক্ষে এখানে চটকদার বিজ্ঞাপন, ধূর্ত বিক্রয় প্রতিনিধি, দ্রব্যের কৃত্রিম দুষ্প্রাপ্যতা, বাজারের দূরত্ব ইত্যাদি দ্বারা প্রতিনিয়তই ভোক্তাগণ প্রতারিত হয়। যে কারণে ভোক্তাকে পুরোপুরি স্বাধীন বলা যায় না। তাছাড়া দাম প্রক্রিয়া সমাজে আয়-বৈষম্য বাড়ায়। ধনীরা অধিক দামে তাদের পছন্দসই দ্রব্যাদি ক্রয় এবং সম্পদ কুক্ষিগত করে বিলাসী জীবনযাপন করে। অনেকে আবার মনে করেন, দাম ব্যবস্থা খরচ ও উপকার ঠিকমতো পরিমাপ করতে পারে না। এটি কেবল উৎপাদনকারীদের খরচের হিসাব রাখে, কিন্তু কোনো দ্রব্য উৎপাদন করতে গিয়ে সমাজ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হলো তার হিসাব রাখে না। এছাড়া দাম ব্যবস্থা ব্যক্তিগত চাহিদা প্রকাশ করে, সামাজিক চাহিদা নয়। সুতরাং উপরিউক্ত অসুবিধাগুলোর আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত অর্থব্যবস্থায় যে পদ্ধতির সাহায্যে অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা হয় তা যথেষ্ট নয়।