উদ্দীপকে উল্লিখিত অর্থব্যবস্থা তথা মিশ্র অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মানুষের সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি ইসলামের আলোকে পর্যালোচিত হয়, তাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ এ অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে ইসলামি বিধি- বিধান তথা কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হয়। অন্যদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগও পরিলক্ষিত হয়। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার সার্বভৌমত্বকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ এ অর্থব্যবস্থায় ভোক্তা তার পছন্দ অনুযায়ী দ্রব্য ও সেবা অবাধে ভোগ করতে পারে। পক্ষান্তরে, ইসলামি অর্থব্যবস্থায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয়। অর্থাৎ ইসলামি অর্থব্যবস্থা অনুযায়ী, পৃথিবীর সকল সম্পদের মালিক আল্লাহ এবং মানুষ এসবের দেখভালকারী মাত্র।মিশ্র অর্থব্যবস্থায় হালাল-হারাম বিবেচনা করা না হলেও ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে তা বিবেচনা করা হয়। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় শ্রেণি-বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া এখানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পদের অপচয়ও লক্ষ করা যায়। পক্ষান্তরে, ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যাকাতের মাধ্যমে শ্রেণি-বৈষম্য দূর করার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। তাছাড়া ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সকল মুসলমান ভাই-ভাই এবং অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিশ্র ও ইসলামি অর্থব্যবস্থায় উল্লিখিত পার্থক্যগুলো পরিলক্ষিত হয়।