হ্যাঁ, আমি মনে করি, কিবরিয়া সাহেবের নিজ দেশের ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার চেয়ে ভ্রমণকৃত দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা অধিকতর শ্রেয়। উত্তরের সপক্ষে আমার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলো-প্রথমত, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পত্তি ও উৎপাদনের উপকরণসমূহের ওপর ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। পক্ষান্তরে, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের মালিকানা রাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত থাকে।
দ্বিতীয়ত, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগ স্বীকৃত বিধায় মুনাফাকে সামনে রেখে ব্যক্তি উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগের কোনো স্বীকৃতি নেই। সেখানে উৎপাদনের সকল উদ্যোগ রাষ্ট্রই গ্রহণ করে ফলে রাষ্ট্র মানুষের কল্যাণের জন্য উৎপাদন করে।
তৃতীয়ত, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাজার দাম নির্ধারিত হয় যেখানে ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অবাধ দামব্যবস্থার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত দামব্যবস্থা তথা আরোপিত দামব্যবস্থা প্রচলিত থাকে। যা ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাকে বিবেচনায় রেখে নির্ধারণ করা হয়।
চতুর্থত, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা বজায় থাকে ফলে আয় বৈষম্য দেখা যায়। অপরদিকে, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণগুলোর ওপর সামাজিক মালিকানা বজায় থাকে। তাই আয় বণ্টনে অসমতা দেখা দেয় না।
পঞ্চমত, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে উৎপাদন কার্য পরিচালিত হওয়ায় শ্রমিক শোষণের সুযোগ থাকে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই এখানে শ্রমিক শোষণের সুযোগ নেই।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, কিবরিয়া সাহেবের নিজ দেশের ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার চেয়ে ভ্রমণকৃত দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা অধিকতর শ্রেয়।