'খ' দেশে উৎপাদন ও ভোগের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা সম্পদের বিরাট বৈষম্য সৃষ্টি করে। যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
'খ' দেশের অর্থব্যবস্থা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা, যেখানে ব্যক্তি ও উদ্যোক্তারা নিজস্ব মুনাফার লক্ষ্যে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা বজায় রাখা যায়। এ অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন ও ভোগের স্বাধীনতা ব্যক্তি ও উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং বাজার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। তবে এই স্বাধীনতা সম্পদের অসম বণ্টন ও বৈষম্য তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অর্থব্যবস্থায় যাদের মূলধন, প্রযুক্তি এবং দক্ষতা বেশি থাকে, তারা দ্রুত সম্পদ আহরণ করতে সক্ষম হয় এবং আরও ধনী হয়ে ওঠে। বিপরীতে, যাদের প্রাথমিকভাবে সম্পদ কম থাকে, তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে এবং আয়ের বৈষম্য বৃদ্ধি পায়।
উৎপাদন ও ভোগের স্বাধীনতার ফলে বড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে এবং মুনাফা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। ফলে তারা আরও বেশি সম্পদ জমা করে, আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারে এবং আরও বেশি ভোগের সুযোগ পায়। অন্যদিকে, যারা কম সম্পদের মালিক, তারা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণেও সংকটে পড়ে, যার ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও প্রকট হয়।
সুতরাং, 'খ' দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে উৎপাদন ও ভোগের স্বাধীনতা অর্থনীতির অগ্রগতিতে সহায়ক হলেও, এটি দীর্ঘমেয়াদে সম্পদের বৈষম্য বাড়িয়ে সামাজিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।