উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো ধন্তান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক এবং মিশ্র অর্থব্যবস্থা। এ তিনটি ব্যবস্থার মধ্যে মিশ্র অর্থব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হয়।
মিশ্র অর্থব্যবস্থার কার্যকারিতা নিহিত রয়েছে এর ভারসাম্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে। একদিকে এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার সুযোগ থাকে, যা ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে। অন্যদিকে সরকারও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো সাম্য ও সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। ফলে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগ ও সামাজিক কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।
মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সরকার প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে, যেমন দুর্বল খাতগুলোর সুরক্ষা প্রদান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা। এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে এবং বাজারের ত্রুটি দূর করতে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাত উভয়ই সমানভাবে অবদান রাখছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি, সেখানে আয় বৈষম্যের সমস্যা প্রকট হতে পারে। আবার সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ বেশি থাকায় ব্যক্তির উদ্ভাবনশক্তি ও সৃজনশীলতার সুযোগ সীমিত হয়। সুতরাং বলা যায় যে, মিশ্র অর্থব্যবস্থা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়ের সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম। এ কারণেই এটি সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।