উদ্দীপকের A দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা এবং B দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থা বিদ্যমান। নিম্নে উদ্দীপকের দেশ দুটির অর্থ ব্যবস্থা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করা হলো: সমাজতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থা সম্পদ ও উৎপাদনের সকল উপকরণ সরকার বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার দ্বারা উৎপাদন পরিচালিত হয় এবং সকল সম্পদের মালিক হয় রাষ্ট্র। এ ধরনের অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার স্বাধীনতা, শ্রেণীবৈষম্য, ব্যক্তিগত মুনাফা ইত্যাদি অনুপস্থিত। এই কারণে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অবাধ প্রতিযোগিতা দেখা যায় না। উদ্দীপকের B দেশে সকল কর্মকান্ডে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্পদ, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার ফলে আয়ের সুষম বন্টন এবং ভোক্তার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি উল্লেখ রয়েছে। তাই বলা যায় দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি থাকার কারণে উৎপাদনে ব্যক্তিগত উদ্যোগও পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে বিক্রেতার মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন। এই কারণে দ্রব্যের দাম নির্ধারণে সরকারের তেমন কোন ভূমিকা থাকে না। যার ফলে কিছু দ্রব্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা আর বাইরে থাকে। অপরদিকে সমাজতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থায় দাম পরিবর্তনের সরকারের সরাসরি ভূমিকা থাকে। যার ফলে বাজারে অবাধ প্রতিযোগিতা দেখা যায় না। এতে করে শ্রেণীবৈষম্যও লোপ পায়। সর্বোচ্চ সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত হয়। উদ্দীপকেও শ্রমিক শোষণ, ব্যাক্তিগত মালিকানাধীন সম্পদ, কোন কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা না থাকায় ভোক্তার সার্বভৌমত্ব, আর এর ফলে সৃষ্ট স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা ইত্যাদির কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই বলা যায় A দেশটিতে ধনতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থা বিদ্যমান ।