উদ্দীপকে বৈশিষ্ট্য-২ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং বৈশিষ্ট্য-৩ এ লৌকিক ব্যাখ্য নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এ দুটি ব্যাখ্যার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এ ব্যাখ্যা অনুমান, প্রকল্প, সংযুক্তিকরণ এবং শ্রেণিকরণের সাথে সম্পর্কিত এবং লৌকিক ব্যাখ্যা অজ্ঞানতা, অলৌকিকতা, গোঁড়ামি ও অন্ধ বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। যে ব্যাখ্যায় প্রকৃতির নিয়মকানুন অনুসরণ করে ঘটনাবলির মধ্যে কার্য-কারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করে কোনো একটি ঘটনার ব্যাখ্যা দান করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে।" আর "যে ব্যাখ্যায় অদৃশ্য অপ্রাকৃতিক শক্তির আশ্রয় নিয়ে কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয় তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।" বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কার্য-কারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় বাহ্যিক কিছু সাদৃশ্যের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে ঘটনাকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সুনির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত। তাই সবক্ষেত্রেই ব্যাখ্যা একইরূপ হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। বিভিন্ন লোকের দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা, বিশ্বাস ইত্যাদি ভিন্নরূপ। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বিশেষ বিশেষ ঘটনার সাথে যুক্ত সাধারণ নিয়মকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো বিশেষ বিশেষ ঘটনাকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।