উদ্দীপকে সায়মার মায়ের বক্তব্যে ব্যাখ্যা এবং বাবার বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এ দুই ধরনের ব্যাখ্যার নির্দেশ রয়েছে। বৈজ্ঞানিক ও লৌকিক ব্যাখ্যার তুলনামূলক পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-১. লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো অতিপ্রাকৃত, অদৃশ্য ও অবাস্তব কারণ উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রমাণ করা হয়। অন্যদিকে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করে প্রাকৃতিক নিয়মের মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়ে থাকে।২. লৌকিক ব্যাখ্যা অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে। বাস্তবে এ প্রকার ব্যাখ্যার তেমন কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। অন্যদিকে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়ে থাকে। তাই বাস্তবে এ প্রকার ব্যাখ্যা খুবই প্রাসঙ্গিক।৩. লৌকিক ব্যাখ্যায় যেসব কারণ উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তা যাচাই করা যায় না। কেননা কল্পনা ও বিশ্বাস যাচাই করার কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। অন্যদিকে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যেসব কারণ উল্লেখ করা হয় তা যাচাই করা যায়। কেননা কার্যকারণ নিয়ম, বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক নিয়ম যাচাইযোগ্য।৪. লৌকিক ব্যাখ্যায় বাহ্যিক সাদৃশ্য লক্ষ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা। হয়ে থাকে। এ কারণে এ প্রকার ব্যাখ্যা উদ্ভট ও মনগড়া হয়ে। থাকে। অন্যদিকে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় মৌলিক ও অভ্যন্তরীণ সাদৃশ্য লক্ষ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়ে থাকে। এ কারণে এ প্রকার যৌক্তিক গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে।৫.লৌকিক ব্যাখ্যা যেসব মানুষ বিশ্বাস করে তারা এ ব্যাখ্যাকে নিশ্চিত, অপরিবর্তনীয় ও সন্দেহাতীত সত্য বলে গ্রহণ করে। এ ব্যাখ্যার কারণ কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তনযোগ্য নয় বলে তারা মনে করে। অন্যদিকে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যদি কোনো নিয়ম ভিন্নভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয় তাহলে তা পরিবর্তন করা যায়। কেননা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়।