উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি বা প্রকল্পের গুরুত্ব ব্যবহারিক জীবনে অপরিসীম।কোনো ঘটনা ব্যাখ্যা করার জন্য বা কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার জন্য প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়। প্রকল্প প্রণয়ন ব্যতীত কোনো প্রকার বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা অনুসন্ধান সম্ভব নয়। কারণ যেকোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পূর্বে বিজ্ঞানীগণ একটি সম্ভাব্য ধারণা অনুমান করে অগ্রসর হন। তারপর এ আনুমানিক ধারণার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব ও নিয়ম আবিষ্কার করেন। বিজ্ঞানী নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব, আইনস্টাইনের ফোটনতত্ত্ব ও কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ- এসব তত্ত্বে আমরা প্রকল্পের ব্যবহার ও এর সুফল দেখতে পাই। ভূ- অভ্যন্তরে বিভিন্ন খনিজ সম্পদ আবিষ্কারের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন করতে হয়। কেননা এসব আবিষ্কারের শুরুতে আবিষ্কারকগণ সম্ভাব্য প্রকল্প গ্রহণ করেই অগ্রসর হন। সামাজিক সমস্যা, বিভিন্ন অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি রাষ্ট্র প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। যেমন: বার্ষিক আয়-ব্যয়ের সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবে বাজেট প্রণয়ন করা হয়। শিক্ষার উন্নতি সাধন, জনগণের জীনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রকল্পের মাধ্যমেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।বস্তুত প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে প্রকল্প অনেক গুরুত্ব বহন করে। কারণ মানুষ কোনো লক্ষ্য অর্জনের আগে প্রাথমিক পরিকল্পনা করে এবং ঐ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে। তাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অতএব বলা যায়, প্রকল্প ব্যতীত বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আবিষ্কার, বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যা ও কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা অসম্ভব। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমানকাল পর্যন্ত প্রকল্প আমাদের কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।