দৃশ্যকল্প-২ এবং ৩ এ কার্যকারণের পরিশেষ পদ্ধতির এবং সহপরিবর্তন পদ্ধতির ইঙ্গিত করেছে।
যে পদ্ধতিতে কোনো একটি বিশেষ ঘটনা বাড়লে বা কমলে অন্যটা বাড়ে বা কমে তাকে সহপরিবর্তন পদ্ধতি বলে। আর যে পদ্ধতিতে কোনো একটি ঘটনার কারণ নির্ণয়ে পূর্ববর্তী ঘটনার জানা অংশ বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তাই আলোচ্য ঘটনার কারণ বলে বিবেচিত হয়। সঙ্গত কারণে উভয় পদ্ধতির মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। তাকে পরিশেষ পদ্ধতি বলে। সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, উভয়েই কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের পদ্ধতি। উভয় পদ্ধতিতে বিভিন্ন দৃষ্টান্ত প্রয়োজন পড়ে। উভয়ই অমৌলিক পদ্ধতি। বৈসাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়- পরিশেষ শব্দের অর্থ অবশিষ্ট। আর সহপরিবর্তন শব্দের অর্থ সমান পরিবর্তন। পরিশেষ পদ্ধতিতে বিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে, সহপরিবর্তন পদ্ধতি হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করা হয়। পরিশেষ পদ্ধতিতে সমগ্র থেকে কিছু বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু সহপরিবর্তন পদ্ধতিতে তা সম্ভব নয়।
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত, চা ভর্তি একটি ফ্লাক্সের ওজন ৫ kg, ফ্লাক্সের ওজন ১ kg। সুতরাং, চায়ের ওজন ৪ kg।
এটি পরিশেষ পদ্ধতিকে নির্দেশ করে। কেননা বিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চায়ের প্রকৃত ওজন নির্ণয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-৩ এ দ্রব্যের চাহিদা ও যোগানের বিপরীতধর্মী সম্পর্ক প্রকাশ পেয়েছে। যা সহপরিবর্তন পদ্ধতিকে নির্দেশ করে। কারণ সহপরিবর্তন পদ্ধতিতে একটি ঘটনা বাড়লে বা কমলে অন্যটিতে বাড়ে বা কমে।
পরিশেষে বলা যায়, সহপরিবর্তন পদ্ধতি ও পরিশেষ পদ্ধতির সাহায্যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়। এছাড়াও এই পদ্ধতিগুলোর সাথে অনেক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারও সম্ভব হয়েছে। তাই পদ্ধতি দুটির গুরুত্ব অপরিসীম।