তথ্য-২ এ সহপরিবর্তন পদ্ধতি (The Method of Concomitant Variation) প্রতিফলিত হয়েছে।
'সহপরিবর্তন' শব্দটির অর্থ পারস্পরিক সমান পরিবর্তন। অর্থাৎ সহপরির্তন পদ্ধতি অনুযায়ী বলা হয়, একটি ঘটনার পরিবর্তনের সাথে সাথে যদি অন্য ঘটনাও সমানভাবে পরিবর্তিত হয় তাহলে পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ (Cause) এবং পরবর্তী ঘটনাকে কার্য (Effect) বলে। যেমন— বায়ুর চাপ বৃদ্ধি বা হ্রাসের সাথে সাথে ব্যারোমিটারের (Barometer) পারদ স্তম্ভের মাত্রাও বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। সুতরাং আমরা বলতে পারি, বায়ুর চাপই পারদের ওঠা-নামার কারণ। এখানে 'বায়ুর চাপ' হলো কারণ এবং 'পারদের ওঠা-নামা' হলো কার্য। বস্তুত সহপরিবর্তন পদ্ধতি কার্য ও কারণের পরিমাণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল। কার্য ও কারণের পরিবর্তন কখনও সমমুখী হয়, কখনও বা বিপরীতমুখী হয়ে থাকে। যেমন— চাঁদের আকৃতির সাথে জোয়ার-ভাটার পরিবর্তন সমমুখী। আবার দ্রব্যের চাহিদার সাথে যোগানের পরিবর্তন বিপরীতমুখী ।
তথ্য-২ এ বাজারে শীতের সবজি সরবরাহ কম হলে সবজির দাম বেশি হয়। একইভাবে সবজির সরবরাহ বেশি হলে দাম কম হয়। এখানে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে। আর সরবরাহ কমলে দাম বাড়ে। দাম ও সরবরাহের এই বিপরীতমুখী প্রক্রিয়াকে সহ-পরিবর্তন পদ্ধতির সাহায্যে প্রকাশ করা যায়। সহ-পরিবর্তন পদ্ধতি একটি সহজ সরল পদ্ধতি । এই পদ্ধতির সাহায্যে কার্যকারণ সম্পর্কের পরিমাণগত দিকটি নির্ণয় করা যায়। স্থায়ী কারণসমূহের ওপর এই পদ্ধতির প্রয়োগ খুব ফলপ্রসূ।