প্রকল্পের চারটি স্তর আছে। এই স্তরগুলো হলো- নিরীক্ষণ, আনুমানিক ধারণা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরীক্ষামূলক সমর্থন। প্রথমত, নিরীক্ষণ বলতে কোনো ঘটনাকে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা বোঝায়। নিরীক্ষণের মাধ্যমেই আমরা কোনো ঘটনার সংস্পর্শে আসি এবং তার কারণ সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করি। এ সময় একাধিক সম্ভাব্য কারণ আমাদের মনে দোলা দেয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত গৃহনির্মাণ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি তদন্তের স্বার্থেই ভবন হেলে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে ভবন পরিদর্শন করেন। অর্থাৎ নিরীক্ষণের মাধ্যমেই তদন্ত কমিটি প্রথম ঘটনার সংস্পর্শে আসে। দ্বিতীয়ত, প্রকল্পের দ্বিতীয় স্তর হলো আনুমানিক ধারণা। নিরীক্ষিত ঘটনাটি ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য একাধিক কারণের মধ্যে থেকে যেকোনো একটি কারণকে ঘটনার কারণ বলে আন্দাজ করাই আনুমানিক ধারণা। এরপর তদন্ত কমিটি আনুমানিক ধারণা করল উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও শক্ত পাইলিং না করার কারণে ভবনটি হেলে পড়েছে। তৃতীয়ত, প্রকল্পের তৃতীয় স্তর হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ। আনুমানিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে তদন্ত কমিটি সিদ্ধান্ত নিলেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও দুর্বল পাইলিংয়ের কারণে ভবনটি হেলে পড়েছে। চতুর্থত, প্রকল্পের চতুর্থ স্তর হলো পরীক্ষামূলক সমর্থন। এই স্তরে কোনো প্রকল্প সম্পর্কে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবের সাথে যাচাই করা হয়। তদন্ত কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বাস্তবের সাথে যাচাই করেই ভবন হেলে পড়ার কারণ নির্ণয় করে। অতএব বলা যায়, গৃহনির্মাণ কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমটি প্রকল্পের সবগুলো স্তর অনুসরণ করেছে।