প্রকল্প প্রমাণের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত-১ এর মাধ্যমে প্রকল্প প্রমাণের সংকট উত্তরক দৃষ্টান্তকে নির্দেশ করেছে এবং দৃষ্টান্ত-২ এর মাধ্যমে প্রকল্প প্রমাণের সংকট উত্তরক পরীক্ষণ নির্দেশ করেছে।
প্রকল্প হলো একটি প্রাথমিক আনুমানিক ধারণা। কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য এটি প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, কোনো একটি ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্প প্রণয়ন করা যায়। এক্ষেত্রে সঠিক প্রকল্প নির্ণয় করা একটি কঠিন ব্যাপার হয়ে যায়। কেননা প্রতিটি প্রকল্পই বৈধ প্রকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়। এ অবস্থায় কোনো একটি বিশেষ ঘটনা বা দৃষ্টান্ত প্রতিযোগী প্রকল্পগুলোর মধ্যকার সংকট নিরসনে সাহায্য করে। যে ঘটনার বা যার মাধ্যমে প্রতিযোগ প্রকল্পগুলোর মধ্যকার সংকট নিরসন করা হয় তাকে সংকট উত্তরক দৃষ্টান্ত বলে। উদ্দীপকের ব্যক্তি অপরিচিত বিমানবন্দরে নেমে তার কাঙ্ক্ষিত গেট কোন দিকে তা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এই অবস্থায় তীর চিহ্নিত একটি বোর্ডের লেখা তার কাঙ্ক্ষিত গেট কোন দিকে তা খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। অতএব, উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ উল্লিখিত তীর চিহ্নিত বোর্ডের লেখার মাধ্যমে সংকট উত্তরক দৃষ্টান্ত নির্দেশিত হয়েছে।
আবার, দৃষ্টান্ত-২ এর মাধ্যমে প্রকল্প প্রমাণের সংকট উত্তরক দৃষ্টান্তকে নির্দেশ করেছে। দৃষ্টান্ত-২ এর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা তাদের ল্যাবে একটি তরলের প্রকৃতি জানার জন্য তরলের মধ্যে লাল লিটমাস পেপার ডুবিয়ে পরীক্ষা করে। কেননা, তাদের তরলের প্রকৃতি সম্পর্কে জানা নেই। এখন এ সম্পর্কে তারা কয়েকটি প্রকল্প তৈরি করে পরীক্ষার মাধ্যমে দেখে কোন প্রকল্পটি সত্য হয়। তাদের জানা আছে, লাল লিটমাসকে নীল করে। কাজেই তারা তরলের মধ্যে লাল লিটমাস পেপার ডুবিয়ে দেখে তা নীল হয়ে গেল। এখানে লাল লিটমাস পেপার দ্বারা পরীক্ষণ হলো 'চরম পরীক্ষণ'। আর এভাবে পরীক্ষণের মাধ্যমে চরম দৃষ্টান্ত স্থাপনের পদ্ধতিকেই বলে চরম পরীক্ষণ বা সংকট উত্তরক পরীক্ষণ।
পরিশেষে বলা যায়, প্রকল্প প্রমাণের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত-১ এবং দৃষ্টান্ত-২ উভয়ই হলো সংকট উত্তরক পরীক্ষণ। বাস্তবে এরূপ পরীক্ষণের মাধ্যমে চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সংকট উত্তরক করতে বেশ ভূমিকা রাখে।