প্রকল্পের চারটি স্তর আছে। এই স্তরগুলো হলো- নিরীক্ষণ, আনুমানিক ধারণা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও যাচাইকরণ। এই চারটি স্তরই উদ্দীপকের ঘটনায় আছে কিনা, তা যাচাই করতে হবে। প্রথমত, প্রকল্পের প্রথম স্তর হলো নিরীক্ষণ। নিরীক্ষণ বলতে কোনো ঘটনাকে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা বোঝায়। নিরীক্ষণের মাধ্যমেই আমরা কোনো ঘটনার সংস্পর্শে আসি এবং তার কারণ সম্বন্ধে চিন্তা ভাবনা করি। এ সময় একাধিক সম্ভাব্য কারণ আমাদের মনে দোলা দেয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত তানভীর সাহেব পার্কে হাঁটার সময় তিনি বুঝতে পারলেন, তার পকেটে মোবাইল ফোনটি নাই। অর্থাৎ নিরীক্ষণের মাধ্যমেই তিনি প্রথম ঘটনার সংস্পর্শে আসলেন। দ্বিতীয়ত, প্রকল্পের দ্বিতীয় স্তর হলো আনুমানিক ধারণা। নিরীক্ষিত ঘটনাটি ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য একাধিক কারণের মধ্যে থেকে যেকোনো একটি কারণকে ঘটনার কারণ বলে আন্দাজ করাই আনুমানিক ধারণা। এরপর তানভীর সাহেব ধারণা করলেন, মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে গেছে। এটাই আনুমানিক ধারণা। তৃতীয়ত, প্রকল্পের তৃতীয় স্তর হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ। প্রকল্পে নিরীক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আনুমানিক ধারণা গঠন করা হয় এবং আনুমানিক ধারণা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তারপর তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন যে, মোবাইল ফোনটি চুরি করেছে তাকে পার্কের মধ্যেই শনাক্ত করা যাবে। চতুর্থত, প্রকল্পের চতুর্থ স্তর হলো পরীক্ষামূলক সমর্থন। এই স্তরে কোনো প্রকল্প সম্পর্কে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবের সাথে যাচাই করা হয়। সবশেষে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে তার সিদ্ধান্ত যাচাই করে নেওয়া হয়, যা প্রকল্পের পরীক্ষামূলক সমর্থন বিষয়টিকে নির্দেশ করে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে প্রকল্পের সবগুলো স্তরই রয়েছে।