দৃশ্যকল্প-১ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার শৃঙ্খলযোজন রূপের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-শৃঙ্খলযোজন হচ্ছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি বিশেষ রূপ। সাধারণত শৃঙ্খলযোজন কথাটির অর্থ হলো কতকগুলো ঘটনার পর্যায়ক্রমিক পারস্পরিক সংযুক্তি। অনেক সময় একটি ঘটনা বা কার্য সরাসরি কোনো কোনো কারণের ফলে সংঘটিত না হয়ে দূরবর্তী কোনো কারণ থেকে সংঘটিত হয়। অর্থাৎ, যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো কার্য ও তার দূরবর্তী কারণের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী পর্যায় আবিষ্কার করা হয় তাকে শৃঙ্খলযোজন বলে। শৃঙ্খলযোজনের মাধ্যমে দেখানো হয় যে, কোনো কার্য তার কারণ থেকে সরাসরি উদ্ভব হয় না, বরং ঘটনার কারণ ও চূড়ান্ত কার্যের মধ্যবর্তী পর্যায় থাকে।দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। অতএব বজ্রপাত হবে। বৈজ্ঞানিকদের মতে, বিদ্যুৎ তাপ উৎপাদন করে, তাপ বায়ুর আকস্মিক প্রসার ঘটায় এবং বায়ুর সম্প্রসারণের কারণেই প্রচণ্ড শব্দের সৃষ্টি হয়। তাই কার্যের (বজ্র গর্জনের) ও তার দূরবর্তী কারণের (বিদ্যুতের) অন্তর্বর্তী যোগসূত্র হচ্ছে তাপ, তাপের ফলে বায়ুর সম্প্রসারণ; এ অন্তর্বর্তী যোগসূত্রই উভয়ের মধ্যে সম্বন্ধ শৃঙ্খলযোজনের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত শৃঙ্খলযোজন রূপের দৃষ্টান্ত।