উদ্দীপকে বলা হয়েছে বিজ্ঞানের ছাত্র ও গ্রামবাসী রোগের কারণ হিসেবে যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। নিচে উভয় ব্যাখ্যার মধ্যকার পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-কোনো কার্যকারণ নিয়ম ব্যতিরেকে কেবল মনগড়া ধারণা বা অতিপ্রাকৃত শক্তির আশ্রয়ে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। অন্যদিকে, কোনো ঘটনার কার্যকারণ নিয়ম অনুসরণ করে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক দিক উল্লেখ করা হয়। এ কারণে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অলৌকিকতা বা আকস্মিকতার কোনো স্থান নেই। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভুত্ব স্বীকার করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট ঘটনার নিয়মকে একই জাতীয় অন্যান্য ঘটনার নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত শক্তির আশ্রয় ও মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়া হয় বলে এখানে কোনো সুনিদিষ্ট নিয়ম থাকে না।উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় কন্দর্পপুর গ্রামের লোকজন তাদের নানাবিধ রোগের কারণ হিসেবে 'শীতলা' দেবীর অভিশাপকে চিহ্নিত করে। কিন্তু এটি তাদের মনগড়া ব্যাখ্যা। এ কারণে এটি হলো লৌকিক ব্যাখ্যা। অন্যদিকে, গ্রামের বিজ্ঞানের ছাত্র বলে, কারখানার বর্জ্যই এসব রোগের কারণ। তার এ বক্তব্যটি নদীর পানি দূষণের অপরিহার্য কারণ এবং নানাবিধ রোগের সাথে প্রাসঙ্গিক। তাই এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হিসেবে পরিগণিত।পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রাধান্য পায়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস ও ধ্যান- ধারণা প্রকাশ পায়। এ কারণে লৌকিক ব্যাখ্যার চেয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য ও অধিক গুরুত্বের দাবিদার।