স্বপন ও সুজনের বক্তব্যে যথাক্রমে লৌকিক ব্যাখ্যা ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার নমুনা দেখা যায়। সুজনের বক্তব্যটি যথার্থ বলে মনে করি। নিচে উভয়ের বক্তব্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো- কোনো কার্যকারণ নিয়ম ব্যতিরেকে কেবল মনগড়া ধারণা বা অতিপ্রাকৃত শক্তির আশ্রয় নিয়ে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তা লৌকিক ব্যাখ্যা। অন্যদিকে, কোনো ঘটনার কার্যকারণ নিয়ম অনুসরণ করে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তাই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক দিক উল্লেখ করা হয়। এ কারণে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অলৌকিকতা বা আকস্মিকতার কোনো স্থান নেই। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যায় সাধারণত অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভুত্ব স্বীকার করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট ঘটনার নিয়মকে একই জাতীয় অন্যান্য ঘটনার নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত শক্তির আশ্রয় নেওয়া ও মনগড়া কথা বলা হয় বলে এখানে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে না।উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় স্বপন সুন্দরবনের জজালের মধ্য দিয়ে হাঁটার সময় বন্ধু সুজনকে একটি গুহা দেখিয়ে বলে, সেখানকার একটি দানব তার কাকার ছেলে কার্তিককে ধরে মেরে ফেলেছে। এটি স্বপনের মনগড়া অর্থাৎ নিছক লৌকিক ব্যাখ্যা। কিন্তু সুজন পারিপার্শ্বিকতা বিচার করে বলে, কার্তিক আসলে কোনো বাঘের শিকার হয়েছিল, আর বাঘেই তাকে খেয়ে ফেলেছে। তার এ বক্তব্য মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাই এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হিসেবে পরিগণিত।বস্তুত, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রাধান্য পায়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণা প্রকাশ পায়। এ কারণে আমি স্বপনের বক্তব্যের চেয়ে সুজনের বক্তব্যকে যথার্থ বলে মনে করি।