দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত ব্যাখ্যায় যথাক্রমে লৌকিক ব্যাখ্যা ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে। নিচে উভয় ব্যাখ্যার পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-কোনো কার্যকারণ নিয়ম ব্যতিরেকে কেবল মনগড়া ধারণা বা অতিপ্রাকৃত শক্তির আশ্রয়ে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। দৃশ্যকল্প-১ এ এরই দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়। অন্যদিকে, কোনো ঘটনার কার্যকারণ নিয়ম অনুসরণ করে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। দৃশ্যকল্প-২ এ চন্দ্রগ্রহণের কার্যকারণ নিয়ম অনুসরণে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এটি একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। এরূপ ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক দিক উল্লেখ করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অলৌকিকতা বা আকস্মিকতার কোনো স্থান নেই। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যায় অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভুত্ব স্বীকার করা হয়।বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একটি ঘটনাকে সংশ্লিষ্ট একই জাতীয় অন্যান্য ঘটনার নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় তা করা হয় না। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো নিয়ম থাকে না।পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রাধান্য পায়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস ও ধ্যান- ধারণা প্রকাশ পায়। এ কারণে লৌকিক ব্যাখ্যার চেয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।