উদ্দীপকে উল্লিখিত কণা ও বীণার বক্তব্যে যথাক্রমে লৌকিক ব্যাখ্যা ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে। নিচে উভয় বক্তব্যের আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় কণা কলেরার কারণ হিসেবে বলে, খারাপ বাতাস লাগলে কলেরা হয়। কিন্তু এটি তার মনগড়া ব্যাখ্যা। এ ধরনের ব্যাখ্যাকে বলা হয় লৌকিক ব্যাখ্যা। কারণ এরূপ ব্যাখ্যায় কার্যকারণ নিয়ম ব্যতিরেকে সাধারণ মানুষের নিছক মনগড়া ধারণা প্রকাশ পায়। অন্যদিকে, কোনো ঘটনার কার্যকারণ নিয়ম অনুসরণ করে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। উদ্দীপকের বীণা বলে, কমা (,) আকৃতির এক ধরনের জীবাণুর কারণে কলেরা হয়ে থাকে। এ রোগ হলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায় । তার এই বক্তব্য কলেরা রোগ হওয়ার সঠিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হিসেবে স্বীকৃত। বস্তুত উভয় ব্যাখ্যাই আমাদের কৌতূহলের পরিতৃপ্তি সাধন করে। পাশাপাশি কোনো অস্পষ্ট, জটিল বা দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজ ও স্পষ্ট করে বুঝতে সাহায্য করে। সে অর্থে উভয় ব্যাখ্যার মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
অন্যদিকে, লৌকিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মধ্যে মৌলিক ও পদ্ধতিগত তফাৎ রয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক দিক উল্লেখ করা হয়। এ কারণে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অলৌকিকতা বা আকস্মিকতার কোনো স্থান নেই। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভুত্ব স্বীকার করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট ঘটনার নিয়মকে একই জাতীয় অন্যান্য ঘটনার নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত শক্তির আশ্রয় নিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়া হয় বলে এখানে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে না।
পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক থাকে যা লৌকিক ব্যাখ্যায় থাকে না। তাছাড়া লৌকিক ব্যাখ্যা প্রকৃতিগতভাবে ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণার ওপর নির্ভরশীল। এই কারণে লৌকিক ব্যাখ্যা যৌক্তিক দিক থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।