উদ্দীপকের গ্রামবাসীর বক্তব্যের মাধ্যমে লৌকিক ব্যাখ্যা এবং সুমনের বক্তব্যের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে। নিচে তার তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-ব্যাখ্যার মাধ্যমে কোনো একটি ঘটনাকে সহজ ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করা হয়। ব্যাখ্যার মাধ্যমে আমরা একটি ঘটনার প্রকৃত রূপ জানতে পারি। যখন কোনো ঘটনার ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃতিক, অস্পষ্ট ও মনগড়া কারণ উল্লেখ করে ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। উদ্দীপকের গ্রামবাসী বসন্ত রোগের কারণ হিসেবে এটিকে অভিশাপ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ঝাড়ফুঁক দিতে শুরু করেছে। যেহেতু গ্রামবাসী ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও ধ্যানধারণার ভিত্তিতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে, তাই গ্রামবাসীর ব্যাখ্যার মাধ্যমে লৌকিক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে। লৌকিক ব্যাখ্যায় প্রকল্পের কোনো ব্যবহার করা হয় না। এই প্রকার ব্যাখ্যায় কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে না। এছাড়া নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম না থাকায় লৌকিক ব্যাখ্যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। অপরপক্ষে, যে ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক নিয়ম উল্লেখ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। উদ্দীপকের সুমন তার বক্তব্যে বসন্ত রোগের কারণ ও প্রতিকার হিসেবে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়মের উল্লেখ করেছে। তাই সুমনের বক্তব্যের মাধ্যমে বৈজ্ঞানক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রকল্পের ব্যবহার করা হয়। এখানে একটি ঘটনাকে সমজাতীয় অন্যান্য ঘটনার সাথে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তাই শ্রেণিকরণের সাথে যুক্ত। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে একটি ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রকাশ পায়। ফলে আমরা একটি ঘটনার প্রকৃত রূপ জানতে পারি। তাই বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কার্যকারণ সম্পর্কনির্ভর যথার্থ ব্যাখ্যা।ে।