দৃশ্যকল্প-২-এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার শৃঙ্খলযোজন প্রতিফলিত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তিনটি রূপের মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো শৃঙ্খলযোজন, যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো কার্য ও তার দূরবর্তী কারণের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী পর্যায় আবিষ্কার করে ব্যাখ্যা করা হয় তাকে শৃঙ্খলযোজন বলে। শৃঙ্খলযোজনের মাধ্যমে দেখানো হয়, কোনো কার্য তার কারণ থেকে সরাসরি উদ্ভব হয় না। ঘটনার কারণ ও চূড়ান্ত কার্যের মধ্যবর্তী পর্যায় থাকে। আর এর মধ্যবর্তী পর্যায়টি অতিক্রম করেই কার্যটি সংঘটিত হয়। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ দেখানো হয়েছে যে, 'কঠোর পরিশ্রম' ও সমৃদ্ধির মধ্যবর্তী পর্যায় হলো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল ও ভালো চাকরি লাভ। কঠোর পরিশ্রমের কারণে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল হয় আর ভালো ফলাফল হলে ভালো চাকরি হয়। যার ফলে সমৃদ্ধি আসে। যেহেতু উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২-এ একটি কার্যের কারণ ও চূড়ান্ত কার্যের মধ্যবর্তী পর্যায় আবিষ্কার দেখানো হয়েছে। তাই এতে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ শৃঙ্খলযোজন নির্দেশিত হয়েছে। দৃশ্যকল্প-৩-এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে। ব্যাখ্যার মাধ্যমে জটিল ও রহস্যময় ঘটনাকে স্পষ্ট ও বোধগম্যভাবে প্রকাশ করা হয়। আর যখন কোনো ঘটনার ব্যাখ্যার প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক নিয়ম উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তখন তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রকল্পের ব্যবহার করা হয়। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-৩-এ ভালো ফসলের জন্য দরকার ভালো মানের বীজ, পরিমিত পানি, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা। অর্থাৎ ঘটনাকে অন্য একটি ঘটনার সাথে সাদৃশ্য বিচার করে ব্যাখ্যা করা হয়। এখানে ভালো ফসলের জন্য কী কী দরকার তা বৈজ্ঞানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই দৃশ্যকল্প-৩-এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে।পরিশেষে বলা যায়, শৃঙ্খলযোজন হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি অন্যতম রূপ। তাই এদের মধ্যস্থিত সম্পর্ক অনস্বীকার্য।