উদাহরণ-১ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দৃষ্টান্ত এবং উদাহরণ-২ ও ৩ যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দুটি রূপ বিশ্লেষণ ও শৃঙ্খলযোজনের দৃষ্টান্ত। নিচে উদাহরণ-২ ও ৩, উদাহরণ-১ এর আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-উদাহরণ-২ এ উল্লেখিত, নৌকার গতিকে বিশ্লেষণ করে নদীর স্রোত, বাতাসের গতিবেগ, মাঝির দক্ষতা এবং পালের ব্যবহার উল্লেখ করা হয়েছে। যেগুলো একসাথে কাজ করে নৌকার গতি সৃষ্টি করে। আর এই স্বতন্ত্র কারণগুলোর উল্লেখ দ্বারা 'নৌকার গতি'কে ব্যাখ্যা করাই হচ্ছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণ' রূপ। বস্তুত জাগতিক অনেক ঘটনা আছে, যেগুলোর সংঘটনের মূলে নির্দিষ্ট একটি কারণ থাকে না। বরং একাধিক ঘটনা বা কারণ মিলিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ঘটনা বা কার্যটি সংঘটিত করে। এ ক্ষেত্রে কার্যটিকে বলা হয় মিশ্র বা সংযুক্ত কার্য। যাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বিশ্লেষণ রূপের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়।অপরদিকে উদাহরণ-৩ এ পর্যাপ্ত বৃষ্টিকে দেশের উন্নতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টিকে শৃঙ্খলযোজনের মাধ্যমে এভাবে বলা যায়, পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে ভালো শস্য হয়, ভালো শস্য হলে দেশের উন্নতি বৃদ্ধি পায়। আমরা জানি, শৃঙ্খলযোজনের মাধ্যমে কোনো কার্য ও তার দূরবর্তী কারণের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী পর্যায় আবিষ্কার করা হয়। অর্থাৎ, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখানো হয় যে, কোনো কার্য তার কারণ থেকে সরাসরি উদ্ভূত নয়। বরং, এতে মধ্যবর্তী পর্যায় থাকে। এই মধ্যবর্তী পর্যায় অতিক্রম করেই কার্যটি সংঘটিত হয়।