রানু ও রাফির বক্তব্যে যথাক্রমে লৌকিক ব্যাখ্যা ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ধারণা প্রতীয়মান। নিচে উভয় ব্যাখ্যার তুলনামূলক পার্থক্য দেখানো হলো-কোনো কার্যকারণ নিয়ম ব্যতিরেকে কেবল মনগড়া ধারণা বা অতিপ্রাকৃত শক্তির আশ্রয়ে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
অন্যদিকে, কোনো ঘটনার কার্যকারণ নিয়ম অনুসরণ করে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা' করা হয়। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভুত্ব স্বীকার করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট ঘটনার নিয়মকে একই জাতীয় অন্যান্য ঘটনার নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত শক্তির আশ্রয়ে ও মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়া হয় বলে এখানে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে না।
উদ্দীপকে রাফি ও রানু একটি ইট সবুজ ঘাসের উপর চাপা দিয়ে পনের। দিন পর দেখে সব ঘাস সাদা ও ফেকাসে হয়ে গেছে। তখন রানু বলে, ঐ পাড়ার চাচার অভিশাপে ঘাস সাদা হয়েছে। কিন্তু রাফি বলে, সূর্যের আলোর অভাবে এমন হয়েছে। এখানে রানুর বক্তব্যে মনগড়া ধারণা প্রকাশ পেয়েছে। এ কারণে তার বক্তব্যটি লৌকিক ব্যাখ্যা। কিন্তু রাফির বক্তব্য যথার্থ ও কার্যকারণ নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কারণে তার বক্তব্যটি হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রাধান্য পায়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণা প্রকাশ পায়। তাই লৌকিক ব্যাখ্যা ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।