উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত বিষয়টি তথা লৌকিক ব্যাখ্যার তুলনায় প্রথম অংশের বিষয়টি তথা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য।
কোনো ঘটনার কার্যকারণ নিয়ম অনুসরণ করে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের ব্যাখ্যা আমাদের জিজ্ঞাসা বা বুদ্ধিবৃত্তিকে পরিতৃপ্ত করে এবং সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অলৌকিকতার কোনো স্থান নেই।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের সাথে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মিল রয়েছে। এখানে শিশুদের বাঁহাতি হয়ে জন্মগ্রহণ করার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, '৪০ ধরনের বিশেষ জিন, কম ওজন নিয়ে জন্মানো, পরিবেশ ও জীবনযাপন পদ্ধতি, গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ ইত্যাদি।' এরূপ ব্যাখ্যা কার্যকারণ নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক। কিন্তু উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যাটি মনগড়া ধারণার আশ্রয়ে বর্ণিত। এ কারণে দ্বিতীয় অংশের বক্তব্য হলো লৌকিক ব্যাখ্যা। যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
আলোচনা শেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বিদ্যমান থাকে যা লৌকিক ব্যাখ্যায় থাকে না। তাছাড়া লৌকিক ব্যাখ্যা প্রকৃতিগতভাবে ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণার ওপর নির্ভরশীল। এই কারণে যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে লৌকিক ব্যাখ্যার তুলনায় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অধিক গ্রহণযোগ্য।