দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার শৃঙ্খলযোজন ও
বিশ্লেষণ রূপটি নির্দেশ করে। নিচে রূপ দুটির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো কার্য ও তার দূরবর্তী কারণের মধ্যে একটি 'মধ্যবর্তী পর্যায় আবিষ্কার করা হয় তাকে শৃঙ্খলযোজন বলে। শৃঙ্খলযোজনের মাধ্যমে দেখানো হয় যে-কোনো কার্য তার কারণ থেকে সরাসরি উদ্ভূত হয় না। প্রাথমিক কারণ ও চূড়ান্ত কার্যের মধ্যবর্তী পর্যায় থাকে। এই মধ্যবর্তী পর্যায় অতিক্রম করেই কার্যটি সংঘটিত হয়। অন্যদিকে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় মিশ্র কার্যের কারণগুলোকে আলাদা আলাদা করে দেখানোর প্রক্রিয়াকে বলে বিশ্লেষণ। বিশ্লেষণের মাধ্যমে মিশ্র কার্যের কারণগুলো পৃথক পৃথক ভাবে দেখানো হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ ভালো গাছকে ভালো ফলের কারণ বলে মনে করা হয়। কিন্তু শৃঙ্খলযোজনের মাধ্যমে দেখা যায় যে, এর মধ্যবর্তী পর্যায় হিসেবে ভালো পরিচর্যার ভূমিকাও রয়েছে। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত 'রিকশার গতি' হলো একটি মিশ্রকার্য। এ মিশ্রকার্যটির স্বতন্ত্র কারণগুলো হলো- চালকের ক্ষমতা, চালকের সুস্থতা, রাস্তার মসৃণতা ও ট্রাফিক সিগনালের উপস্থিতি। এভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে মিশ্র কার্যের কারণগুলোকে আলাদা করা হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, শৃঙ্খলযোজন ও বিশ্লেষণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দুটি ভিন্ন রূপ। যাদের বৈশিষ্ট্য ও কাজ আলাদা। তবে ব্যাখ্যার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিরূপণের জন্য উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।