উত্তরের A ও C দ্বারা যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ বিশ্লেষণ ও অন্তর্ভুক্তি নির্দেশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রে A ও C ব্যতীত কেবল শৃঙ্খলযোজনকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা জানি, শৃঙ্খলযোজন ব্যতীত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্য দুটি রূপ হলো বিশ্লেষণ ও অন্তর্ভুক্তি। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রাকৃতিক নিয়ম বা কার্যকারণ নিয়ম উল্লেখ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার যেরূপে কোনো একটি মিশ্রকার্যের মিলিত কারণগুলোকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তাকে বিশ্লেষণ বলে। মিশ্রকার্য হলো কতকগুলো স্বতন্ত্র কারণের মিলিত প্রচেষ্টার ফল। বিশ্লেষণে মিশ্রকার্যের স্বতন্ত্র কারণগুলোকে পৃথক করে ব্যাখ্যা করা হয়। যেমন- নদীতে নৌকা চালানো একটি মিশ্রকার্য। এ মিশ্রকার্যটির স্বতন্ত্র কারণগুলো হলো-নদীর স্রোত, বাতাসের বেগ, মাঝির দক্ষতা, দাঁড়ের ব্যবহার প্রভৃতি। এভাবে বিভিন্ন স্বতন্ত্র কারণ পৃথক করে মিশ্র কার্যকে ব্যাখ্যা করলে তাকে বিশ্লেষণ বলে।
আবার, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক নিয়ম উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যেরূপে একটি কম ব্যাপক নিয়মকে একটি বেশি ব্যাপক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে। যেমন- জোয়ার-ভাটার নিয়মকে যখন মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয় তখন তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে। এখানে সংশ্লিষ্ট ঘটনার নিয়ম একটি বিশেষ নিয়ম। আর যে নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয় সেটি একটি সার্বিক নিয়ম। এভাবে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অন্তর্ভুক্তি বলে।