উদ্দীপকে (খ) চিহ্নিত স্থানে নির্দেশিত বিষয়টি বৈজ্ঞানিক, ব্যাখ্যা। নিচে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সাথে লৌকিক ব্যাখ্যার পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-
১. যখন প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম উল্লেখ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তখন তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। অন্যদিকে, যখন অতিপ্রাকৃতিক ও কাল্পনিক কারণ উল্লেখ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় তখন তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
২. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কার্যকারণ সম্পর্ক উল্লেখ করা হয় বিধায় এখানে প্রকল্প প্রণয়ন করতে হয়। কেননা এখানে প্রথমে প্রকল্প প্রণয়ন করে তারপর কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় না। তাই এখানে প্রকল্প প্রণয়নের প্রয়োজন পড়ে না।
৩. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংযুক্তিকরণ আছে। কেননা এখানে সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে সম্পর্কিত নিয়মকে অন্যান্য নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা হয়। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যায় সংযুক্তিকরণ নেই। কেননা এখানে সমজাতীয় ঘটনাকে অন্য ঘটনার সাথে যুক্ত করা হয় না।
৪. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রাসঙ্গিক। কেননা এখানে ঘটনার ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকে। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যা অপ্রাসঙ্গিক। কেননা এখানে ঘটনার সাথে ব্যাখ্যা প্রাসঙ্গিক হয় না।
৫. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ধরন একই থাকে। কেননা এ প্রকার ব্যাখ্যায় নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয় বিধায় এটি স্থান-কাল-পাত্র ভেদে একই থাকে। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যার ধরন ভিন্ন হয়। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তি নিজস্ব বিশ্বাস ও ধ্যানধারণা থেকে ব্যাখ্যা করে বলে লৌকিক ব্যাখ্যা স্থান-কাল-পাত্রভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও লৌকিক ব্যাখ্যার মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। তবে উভয় প্রকার ব্যাখ্যার মধ্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।