উদ্দীপকে ডাক্তার ও সাধারণ মানুষের প্রচলিত ধারণায় যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক ব্যাখ্যা প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক ব্যাখ্যার পার্থক্য নির্ণয় করা হলো—
উদ্দীপকের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, গর্ভাবস্থায় ভুল ওষুধ সেবন, তেজস্ক্রিয়তা, ধূমপান, নেশা, এমনকি ইনফেকশনের কারণে একটি শিশু ঠোঁটকাটা বা তালুকাটা ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। এ ব্যাখ্যাটি একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। কেননা, এ ব্যাখ্যায় কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করে ঘটনার প্রাসঙ্গিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুসরণ করা হয় বলে এ ব্যাখ্যা স্থান-কাল- পাত্রভেদে সবসময় একইরকম হয়ে থাকে। তাই সর্বত্রই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার গুরুত্ব রয়েছে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে ঠোঁটকাটা বা তালুকাটা নিয়ে জন্মানো শিশুর অভিশপ্ত জীবনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ অমাবশ্যার রাতে মাছ কাটা, রাতে ঘোমটা না দিয়ে বাসা থেকে বের হওয়া, বয়োজ্যেষ্ঠদের অভিশাপ ইত্যাদি বিষয় অনুমান করে যা লৌকিক ব্যাখ্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা, লৌকিক ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে থাকে। লৌকিক ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে সমজাতীয় অন্যান্য ঘটনার সাথে সংযুক্তিকরণ করা হয় না। এ ধরনের ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃতিক কারণ ও ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়ে থাকে। যেহেতু বিভিন্ন ব্যক্তির বিশ্বাস বিভিন্ন রকম, তাই লৌকিক ব্যাখ্যা স্থান-কাল-পাত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এ কারণে সবার কাছে লৌকিক ব্যাখ্যার সমান গুরুত্ব নেই।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ডাক্তার ও সাধারণ মানুষের ব্যাখ্যায় বৈজ্ঞানিক ও লৌকিক ব্যাখ্যার উল্লেখ থাকায় উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।