দৃশ্যকল্প-২ ও ৩ দ্বারা যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্তি ও বিশ্লেষণ রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্তি ও বিশ্লেষণ রূপের আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ দেখতে পাই, শ্রেণিকক্ষের ছাত্র → কলেজের সব ছাত্র → সকল ছাত্র দ্বারা নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তৃতীয় রূপ অন্তর্ভুক্তিকে নির্দেশ করা হয়েছে। অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে একটি অল্প ব্যাপক নিয়মকে অধিক ব্যাপক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ অন্তর্ভুক্তি নামক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অবরোহ প্রক্রিয়া কার্যকর হয়ে থাকে। যেমন— 'জোয়ার-ভাটা' যে নিয়মে সংঘটিত হয়, তা মূলত 'মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অন্তর্গত একটি কম ব্যাপক নিয়ম। কাজেই জোয়ার-ভাটা সম্পর্কিত বিশেষ নিয়মকে মাধ্যাকর্ষণ নামক সার্বিক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করার প্রক্রিয়াই হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'অন্তর্ভুক্তি' রূপ ।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-৩ এ দেখতে পাই, রিক্সার গতি নামক একটি মিশ্র কার্যকে চালকের দক্ষতা, রাস্তার মসৃণতা ও বাতাসের গতিবেগ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে নির্দেশিত ব্যাখ্যার রূপটি হলো বিশ্লেষণ। যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো মিশ্র কার্যের যেসকল স্বতন্ত্র কারণ এক সাথে উল্লেখ করা হয় তাই হচ্ছে বিশ্লেষণ। বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় মিশ্র কার্যের স্বতন্ত্র কারণকে আলাদা আলাদা করে দেখানো হয়। যেমন— নৌকার গতিকে বিশ্লেষণ করলে এর মধ্যে 'নদীর স্রোত', 'বাতাসের বেগ', 'দাঁড়ের ব্যবহার ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন কারণের সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলো একসাথে কাজ করে নৌকার গতি সৃষ্টি করে। আর এই স্বতন্ত্র কারণগুলোর উল্লেখ দ্বারা নৌকার গতিকে ব্যাখ্যা করাই হচ্ছে 'বিশ্লেষণ' রূপ।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লেখিত দৃশ্যকল্প-২ ও ৩ দ্বারা নির্দেশিত অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্লেষণ রূপ দুটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অপরিহার্য দুটি বিষয়।