দৃশ্যকল্প-১ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ ও দৃশ্যকল্প-২ কৃত্রিম শ্রেণিকরণকে নির্দেশ করে। নিচে উভয় শ্রেণিকরণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করলে উভয়ের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, উভয় শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্যই হলো জ্ঞানার্জন করা। পাশাপাশি উভয় শ্রেণিকরণ মানসিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং আলোচ্য বিষয় সাদৃশ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
বৈসাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ মৌলিক সাদৃশ্যভিত্তিক হলেও কৃত্রিম শ্রেণিকরণ গুরুত্বহীন ও বাহ্যিক সাদৃশ্যভিত্তিক। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জ্ঞান লাভ। অর্থাৎ এ শ্রেণিকরণের মাধ্যমে আলোচ্য বিষয়ে সার্বিক ধারণা লাভ করা যায়। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণ ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। তাই এ শ্রেণিকরণের মাধ্যমে পাওয়া যায় বিশেষ জ্ঞান। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের উপকরণগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে পাওয়া যায়। অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণের উপকরণগুলো মানুষের তৈরি। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ সংজ্ঞাভিত্তিক আর কৃত্রিম শ্রেণিকরণ নমুনাভিত্তিক। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া হলেও কৃত্রিম শ্রেণিকরণ হলো লৌকিক প্রক্রিয়া।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের পেছনে উদ্দেশ্যের পার্থক্য থাকায় দুটির মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য থাকাই স্বাভাবিক।