প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ এবং কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো—
প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ শ্রেণিকরণের সাদৃশ্যে বিষয়গুলো প্রকৃতিতে বিদ্যমান থাকে। ফলে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের বেলায় বস্তুসমূহকে বিন্যস্ত করার পূর্বে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ অবান্তর ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ এ শ্রেণিকরণে নির্দেশিত সাদৃশ্যের বিষয়গুলো প্রকৃতি প্রদত্ত নয় বরং মানুষের খেলায়-খুশিমত সৃষ্টি করা হয়। এ কারণে কৃত্রিম শ্রেণিকরণে প্রথমেই একটি নমুনা (Sample) নির্বাচন করে তার সাথে মিলিয়ে বস্তুসমূহকে বিন্যস্ত করা হয়।
প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া। পাশাপাশি এ শ্রেণিকরণের মাধ্যমে বস্তুসমূহ বা ঘটনাবলি সম্পর্কে তত্ত্বগত জ্ঞান লাভ করা যায়। তাই একে অনেক সময় তত্ত্বগত শ্রেণিকরণও বলা হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বিজ্ঞানসম্মত নয়। তাই বিশেষ উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত বলে এ শ্রেণিকরণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। পাশাপাশি
কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মাধ্যমে আমাদের ব্যবহারিক প্রয়োজন সাধিত হয় বিধায় একে ব্যবহারিক শ্রেণিকরণও বলা হয় ।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যে লৌহ প্রাচীর নির্মাণ করা সম্ভব নয়। কারণ উভয় শ্রেণিকরণের প্রকৃতি একই। বস্তুত উভয়ের মধ্যে উদ্দেশ্যগত পার্থক্য বিদ্যমান। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করা এবং কৃত্রিম শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশেষ কোনো ব্যবহারিক সুবিধা লাভ করা ।