উদ্দীপকে লিমন ও তীর্থের উক্তি দু'টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকে লিমন ও তীর্থের উক্তি দুটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণ' ও 'অন্তর্ভুক্তি' রূপের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিচে এ বিষয় দুটি আলোচনা করা হলো: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তিনটি রূপের মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্লেষণ ও অন্তর্ভুক্তি। যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো মিশ্র কার্যকে স্বতন্ত্র কারণসমূহের নিয়মের সাথে যুক্ত করা হয় তাকে বিশ্লেষণ বলে। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একটি মিশ্র কার্যকে তার অন্তর্গত ভিন্ন ভিন্ন কারণাংশে বিশ্লেষণ করা হয়। এরূপ একটি মিশ্র কার্যের পেছনে কয়েকটি স্বতন্ত্র কারণ কাজ করে এবং তারা একত্রে মিলিত হয়ে যৌথ কার্য উৎপন্ন করে। উদ্দীপকের লিমন নৌকার গতিকে ব্যাখ্যা করতে যেয়ে নদীর জোয়ার, মাঝির বৈঠা চালানোর দক্ষতা, অনুকূল বাতাস ও নৌকার পাল তোলা ইত্যাদি কারণ উল্লেখ করে। এসব কারণ একসাথে কাজ করেই নৌকার গতি সৃষ্টি করেছে। এভাবে লিমনের বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণের' দিকটি ফুটে উঠেছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্য আরেকটি রূপ হলো 'অন্তর্ভুক্তি'। যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একটি কম ব্যাপক নিয়মকে একটি বেশি ব্যাপক নিয়মের অধীনে আনয়ন করা হয় তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে। ব্যাখ্যার এ রূপে একটি নিম্নতর মাধ্যমিক নিয়মকে একটি উচ্চতর প্রাথমিক নিয়ম থেকে অবরোহ প্রক্রিয়ায় অনুমান করা হয়। অর্থাৎ একটি মাধ্যমিক নিয়মকে ব্যাখ্যার জন্য তাকে একটি প্রাথমিক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উদ্দীপকের তীর্থ নদীর জোয়ার-ভাটার নিয়মকে মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা প্রদান করে। আমরা জানি, মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম একটি সার্বিক নিয়ম। এ নিয়মের ক্ষেত্রে যে ব্যাখ্যা প্রযোজ্য সেই ব্যাখ্যা জোয়ার-ভাটার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অর্থাৎ তীর্থের ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'অন্তর্ভুক্তি'র রূপটিকেই ফুটিয়ে তুলেছে। পরিশেষে বলা যায, বিশ্লেষণ ও অন্তর্ভুক্তি এ দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সার্বজনীনতা লাভ করে। যার দৃষ্টান্ত উদ্দীপকে লিমন ও তীর্থের উক্তির মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়। তাই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বিশ্লেষণ ও অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম ।
HSC Logic 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Logic 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে লিমন ও তীর্থের উক্তি দু'টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আলোকে বিশ্ল…
উদ্দীপক
Rajshahi · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর