উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো।
উত্তর: উদ্দীপকে ব্যাখ্যাকরণ বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। নিম্নে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা আলোচনা করা হলো- জটিল ও দুর্বোধ্য বিষয়কে সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করা হয়। এক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নিয়ম কানুন অনুসরণ করা হয়ে থাকে, যা সকল ঘটনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না। তাই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকরণে কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। সার্বিক নিয়মের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের নিয়ম অন্য কোনো নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। যেমন- প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি, কার্যকারণ নিয়ম, চিন্তার মৌলিক নিয়ম প্রভৃতি। আবার জড় পদার্থের মৌলিক গুণ ব্যাখ্যা করা যায় না। যে পদার্থের আকার-আকৃতি, বিস্তৃতি, ওজন আছে তাই জড়। জড় পদার্থের এসব দিক একটি থেকে অন্যটি পৃথক যেমন— কাঠ, কলম, পেন্সিল, বইখাতা প্রভৃতি দৃশ্যমান বস্তু একটি থেকে অন্যটি পৃথক। এর ফলে এদের একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা যায় না। এজন্য এসব গুণকে ব্যাখ্যা করা যায় না। আবার কোনো বস্তুর নিজস্ব বা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা করা যায় না। কারণ এক ব্যক্তি বা বস্তুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সাথে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে যুক্ত করা যায় না । তাই ব্যক্তি বা বস্তুর এসব গুণকে ব্যাখ্যা করা যায় না। এছাড়া অনন্য ও অতিসাধারণ কিছু বিষয় যেমন- মানুষের মন, আত্মা, ঈশ্বর প্রভৃতি অতিজাগতিক বিষয়গুলোর বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন কিংবা অন্তর্ভুক্তি কোনোটিই করা সম্ভব নয়। তাই এসব বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাদান অসম্ভব। পরিশেষে বলা যায়, কোনো একটি ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে হলে অপরাপর জ্ঞাত ঘটনা ও নিয়মের সাথে সাদৃশ্য খুঁজে বের করতে হয়। কাজেই যে ঘটনা বা নিয়মকে অন্য কোনো ঘটনা বা নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা যায় না বা তার সাথে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না তার ব্যখ্যাদান সম্ভব নয়। উপর্যুক্ত আলোচনা সাপেক্ষে আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, আমাদের মৌলিক অনুভূতি, পরম বিষয় প্রভৃতির সংযুক্তিকরণ ও অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়।
HSC Logic 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Logic 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো।
উদ্দীপক
Comilla · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর