দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত আরোহটি হলো যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ। যা প্রকৃত আরোহ নয় । নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রকৃত আরোহে আরোহাত্মক লম্ফ বা বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেমন: জব্বার, শেখর ও সবুজসহ বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা দেখে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে— সকল মানুষ হয় মরণশীল। কিন্তু যুক্তিসাম্যমূলক আরোহে এরূপ প্রক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে। অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের আলোকে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। এ কারণে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ পদ্ধতি প্রকৃত আরোহ নয় ।
আরোহের আকারগত ও বস্তুগত ভিত্তি যুক্তিসাম্যমূলক আরোহে অনুপস্থিত থাকে। অর্থাৎ এ আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি, কার্যকারণ নিয়ম এবং নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ পদ্ধতি অনুপস্থিত থাকে। এর পাশাপাশি যুক্তিসাম্যমূলক আরোহে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তা আরোহ পদ্ধতির চেয়ে অবরোহ পদ্ধতি হিসেবে জ্যামিতিতে বেশি ব্যবহার করা হয়। যার দৃষ্টান্ত উদ্দীপকে সুস্পষ্ট। তাই অনেক যুক্তিবিদ এই পদ্ধতিকে জ্যামিতিক পদ্ধতি বলে অভিহিত করেন।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তিসাম্যমূলক আরোহের মধ্যে আরোহের অনেক মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত। এসব কারণে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ প্রকৃত আরোহ নয়।