যোসেফের বক্তব্য পাঠ্যবিষয়ের যৌক্তিক সংজ্ঞাকে নির্দেশ করে। নিচে যৌক্তিক সংজ্ঞার দুটি নিয়ম বিশ্লেষণ করা হলো—
যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়মে বলা হয়েছে, 'যে পদের সংজ্ঞা দেওয়া হবে সেই পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে, পূর্ণ জাত্যর্থের কম বা বেশি উল্লেখ করা যাবে না।' অর্থাৎ যৌক্তিক সংজ্ঞায় কেবল আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করলেই পূর্ণ জাত্যর্থ প্রকাশিত হবে। যেমন: 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব'। এখানে 'মানুষ' পদের পূর্ণ জাত্যর্থ হিসেবে 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি' উভয়ই উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এটি মানুষ পদের যথার্থ সংজ্ঞা হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়মে বলা হয়েছে, 'যে পদের সংজ্ঞা দেওয়া হবে সংজ্ঞাটি সেই পদ অপেক্ষা স্পষ্ট হতে হবে। সংজ্ঞায় কোনো রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।' যৌক্তিক সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো পদের অর্থ সুস্পষ্ট করা। তাই কোনো পদের সংজ্ঞায় রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা হলে সংজ্ঞেয় পদটি স্পষ্ট হওয়ার পরিবর্তে জটিল হয়ে যায়। যেমন: 'উট হয় মরুভূমির জাহাজ'। এখানে 'উট' পদের সংজ্ঞায় 'মরুভূমির জাহাজ' নামক রূপক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে 'উট' পদের সংজ্ঞার উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়েছে। তাই কোনো পদের সংজ্ঞায় ৰূপক বা দুর্বোধ্য ভাষার পরিবর্তে সহজ-সরল ও স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, যৌক্তিক সংজ্ঞার মাধ্যমে পদের অপরিহার্য অর্থ প্রকাশ করা হয়। এজন্য কোনো পদের সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা উচিত।