উদ্দীপকে উল্লিখিত নাবিলা আর মিথিলার বক্তব্যে যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক আরোহ ও সাদৃশ্যমানুমানের প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে এ দুটি আরোহের মধ্যে তুলনামূলক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
বৈজ্ঞানিক আরোহ হলো প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক দৃষ্টান্তে পৌঁছার একটি প্রক্রিয়া। বস্তুত এই অনুমান প্রক্রিয়ায় প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়মের ওপর অধিক জোর দেওয়া হয়। যেমন- উদ্দীপকের নাবিলা বলে, আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই প্রকৃতির নিয়মের অনুসারী। অর্থাৎ প্রকৃতি একই অবস্থায় সর্বদা অভিন্ন আচরণ করে থাকে। এ কারণেই বৈজ্ঞানিক আরোহের মাধ্যমে রহিম, করিম, সুমনের মৃত্যুর ঘটনা থেকে 'সকল মানুষ হয় মরণশীল' এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়। অন্যদিকে, যে অনুমান প্রক্রিয়ায় দুটি বস্তু বা ঘটনার মৌলিক ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে সাদৃশ্যানুমান (Analogy) বলে। সাদৃশ্যানুমানে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো ভিত্তি নেই। যেমন- উদ্দীপকের মিথিলা বলে, মানুষের মতো উদ্ভিদও জন্ম নেয়। মানুষ টেলিভিশন আবিষ্কার করেছে। সুতরাং, উদ্ভিদও টেলিভিশন আবিষ্কার করে। অর্থাৎ এখানে বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বিধায় এটি একটি সাদৃশ্যানুমানের দৃষ্টান্ত।