উদ্দীপকে রুমির বক্তব্যে প্রকৃত আরোহের প্রকারভেদ অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে রত্না ও রুমির বক্তব্য অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে সাদৃশ্য দেখানো হলো- উদ্দীপকে রত্নার বক্তব্যে পূর্ণাঙ্গ আরোহ নির্দেশ করে আর রুমির বক্তব্যে অবৈজ্ঞানিক আরোহ নির্দেশ করে। যে অনুমানে কয়েকটি বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে তাকে আরোহ অনুমান বলে। আরোহ অনুমান দুই প্রকার। যথা- প্রকৃত আরোহ ও অপ্রকৃত আরোহ। যে আরোহ অনুমানে আরোহমূলক লক্ষ বিদ্যমান তাকে প্রকৃত আরোহ বলে। আর যে আরোহ অনুমানে আরোহমূলক লক্ষ বিদ্যমান থাকে না তাকে অপ্রকৃত আরোহ বলে। উদ্দীপকের রত্নার বক্তব্যে পূর্ণাঙ্গ আরোহের ইঙ্গিত রয়েছে, যা অপ্রকৃত আরোহের একটি প্রকারভেদ। যে আরোহ অনুমানে কোনো সামান্য যুক্তিবাক্যের প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমান করে তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। অপরদিকে রুমির বক্তব্যে অবৈজ্ঞানিক আরোহের ইঙ্গিত রয়েছে। কেননা রুমি কিছু সংখ্যক পাখি আকাশে উড়তে দেখে বিশ্বাস করে নেয় যে, সকল পাখি আকাশে উড়ে। আমরা জানি, কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের উপর নির্ভর না করে শুধু অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা যে আরোহ অনুমান তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। পূর্ণাঙ্গ আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে সাদৃশ্য-
১. পূর্ণাঙ্গ আরোহে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো স্থান নেই, তেমনি অবৈজ্ঞানিক আরোহ ও কার্যকারণ সম্পর্কে বিশ্বাসী নয়।
২. পূর্ণাঙ্গ আরোহ এবং অবৈজ্ঞানিক আরোহ উভয়ই সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করে।
৩. পূর্ণাঙ্গ আরোহ বাস্তবে নিরীক্ষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে। একইভাবে অবৈজ্ঞানিক আরোহও নিরীক্ষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে।
৪. পূর্ণাঙ্গ আরোহ বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমান করে। তেমনি অবৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত অনুমান করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে রত্নার বক্তব্যে পূর্ণাঙ্গ আরোহ আর রুমির বক্তব্যে অবৈজ্ঞানিক আরোহ নির্দেশ করে। এই দুই রকমের আরোহের মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও তাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্যও লক্ষ করা যায়।