উদ্দীপকের ছক-১ এর মাধ্যমে প্রকৃত আরোহের প্রকারভেদ সাদৃশ্যানুমানের প্রতিফলন ঘটেছে।
যেসব আরোহের মধ্যে আরোহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য আরোহাত্মক উল্লম্ফন বিদ্যমান থাকে সেসব আরোহকে প্রকৃত আরোহ বলে। প্রকৃত আরোহ তিন প্রকার। এর মধ্যে একটি হলো সাদৃশ্যানুমান। যে অনুমান প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে অনুমান করা হয় তাই সাদৃশ্যানুমান। অর্থাৎ দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে যদি সাদৃশ্য লক্ষ করে অনুমান করা যায়, যে তাদের একটি কোনো বিশেষ গুণের অধিকারী হলে অপরটিও ওই বিশেষ গুণের অধিকারী হবে। এরূপ অনুমানকে সাদৃশ্যানুমান বলে। যুক্তিবিদ্যায় সাদৃশ্যানুমানকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। যথা- ১. সাধু সাদৃশ্যানুমান ও ২. অসাধু সাদৃশ্যানুমান। যে সাদৃশ্যানুমানের ক্ষেত্রে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ, প্রাসঙ্গিক ও অধিক সংখ্যক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। উদ্দীপকের ছক-১ এ দেখানো হয়েছে, মানুষ ও বানরের মধ্যে জন্ম, মৃত্যু, খাদ্য গ্রহণ, বংশবিস্তার ইত্যাদি বিষয়ে মিল আছে মানুষ চেতনাসম্পন্ন। সুতরাং বানরও চেতনাসম্পন্ন। এখানে মানুষ ও বানরের মধ্যে কতিপয় মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাদৃশ্য বিবেচনা করে মানুষের মতো বানরও চেতনাসম্পন্ন সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেহেতু এখানে দুটি বিষয়ের মধ্যে মৌলিক, প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই ছক-১ এর মাধ্যমে সাদৃশ্যানুমানের প্রকারভেদ সাধু সাদৃশ্যানুমান নির্দেশিত হয়েছে। সুতরাং উদ্দীপকের ছক-১ এ প্রকৃত আরোহের প্রকারভেদ সাদৃশ্যানুমানের একটি রূপ সাধু সাদৃশ্যানুমান নির্দেশিত হয়েছে।