উদ্দীপকে উল্লেখিত তথ্য-১ বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং তথ্য-২ অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। নিচে এ দুই আরোহের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-তথ্য-১ এ বর্ণিত, 'নাদিয়া হয় বুদ্ধিমান, রানা হয় বুদ্ধিমান, তমাল হয় বুদ্ধিমান। অতএব, সকল মানুষ হয় বুদ্ধিমান। এখানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে এটি বৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, তথ্য-২ এ বর্ণিত, 'এ পর্যন্ত যত গোলাপ ফুল দেখেছি সব গোলাপই সুন্দর। অতএব, সব গোলাপ ফুল হয় সুন্দর। এখানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এবং অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত।বৈজ্ঞানিক আরোহে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করা হয়। তাই এ অনুমানের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় বলে তা নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ অনুমানে সদর্থক দৃষ্টান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও নঞর্থক দৃষ্টান্তকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না। তাই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয় ।উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ উভয়ই প্রকৃত আরোহের শ্রেণিবিভাগ হলেও এদের মধ্যে পদ্ধতিগত ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে ভিন্নতা বিদ্যমান। এ কারণেই তথ্য-১ ও তথ্য-২ এর মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।