দৃশ্যকল্প-১ এ অসাধু সাদৃশ্যানুমান ও দৃশ্যকল্প-২ এ সাধু সাদৃশ্যানুমানের বিষয় লক্ষ করা যায়। নিচে উভয় সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে, ফুয়াদ দেখতে তার ভাইয়ের মতো। তার ভাই একজন ক্রীড়াবিদ। সুতরাং ফুয়াদ অবশ্যই একজন ক্রীড়াবিদ হবেন। এ অনুমানে অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়েছে বলে এটি অসাধু সাদৃশ্যানুমানের দৃষ্টান্ত। অসাধু সাদৃশ্যানুমানের সাদৃশ্যের বিষয়গুলো অমৌলিক, বাহ্যিক, গুরুত্বহীন ও অজ্ঞাত হওয়ায় অনুপপত্তি বা যুক্তিদোষ ঘটে। এ কারণে অসাধু সাদৃশ্যানুমান একটি লৌকিক প্রক্রিয়া। আবার, দৃশ্যকল্প-২ এ বলা হয়েছে, মানুষ ও উদ্ভিদের মধ্যে জন্ম, বৃদ্ধি, মৃত্যু, বংশবিস্তার উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে। এ অনুমানে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ও খাদ্যগ্রহণ ইত্যাদি বিষয়ে মিল আছে। মানুষের প্রাণ আছে। সুতরাং বিষয়ের সাদৃশ্য বা মিল অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে এটি সাধু সাদৃশ্যানুমানের দৃষ্টান্ত। এ সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে কার্যকারণ নীতির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তাই সাধু সাদৃশ্যানুমানের মূল্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি । অসাধু সাদৃশ্যানুমান সামাজিক কুসংস্কার, লোকবিশ্বাস ও কাল্পনিক চিন্তাধারার ওপর নির্ভরশীল বলে বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে । কিন্তু সাধু সাদৃশ্যানুমান কার্যকারণ নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।