উদ্দীপকে উল্লেখিত যুক্তি-১ ও যুক্তি-২ এ যথাক্রমে অবৈজ্ঞানিক আরোহ এবং বৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। নিচে এ দুই অরোহের মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো-অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয়। যার দৃষ্টান্ত যুক্তি-১ এ পরিলক্ষিত হয়। অন্যদিকে, বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুক্তি-২ এ বর্ণিত, আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আপেল এবং কমলা সবই ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল। অতএব, সকল ফল হয় ভিটামিন সমৃদ্ধ। এখানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেক্ষেত্রে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করা হয়। তাই এ অনুমানের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ অনুমানে সদর্থক দৃষ্টান্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও নঞর্থক দৃষ্টান্তকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না।উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোেহ উভয়ই প্রকৃত আরোহের শ্রেণিবিভাগ হলেও এদের মধ্যে পদ্ধতিগত ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে ভিন্নতা বিদ্যমান। এ কারণেই দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।