দৃশ্যকল্প-১ ও ২ দ্বারা নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে বৈজ্ঞানিক আরোেহ বেশি গ্রহণযোগ্য। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো-বৈজ্ঞানিক আরোহ দুটি পূর্বানুমান 'প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা 'ও' কার্যকারণ নীতি'র ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির অর্থ হচ্ছে প্রকৃতি একই অবস্থায় একই রকম আচরণ করে। আজ যদি জল তৃষ্ণা নিবারণ করে ভবিষ্যতেও একই অবস্থায় জল তৃষ্ণা নিবারণ করবে। আজ যদি অগ্নি দহন কার্য সম্পাদন করে, ভবিষ্যতেও একই অবস্থায় অগ্নি দহন কার্য সম্পন্ন করবে। অর্থাৎ, প্রকৃতিতে একই রকম অবস্থায় একই কারণে একই কার্য ঘটাবে। এজন্য বলা হয়- কার্যকারণ নিয়ম অনুসারে বলা হয়, প্রত্যেক কার্য বা ঘটনারই কারণ আছে। বিনা কারণে কোনো ঘটনা ঘটে না। নিছক শূন্য থেকে কোনো ঘটনার সূত্রপাত হয় না। শূন্য থেকে শূন্যই পাওয়া যায় । এভাবে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নীতির ওপর ভিত্তি করে বিশেষ বিশেষ ঘটনার পর্যবেক্ষণ থেকে আরোহমূলক লক্ষের সাহায্যে বৈজ্ঞানিক আরোহে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ কারণে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত হয় সম্ভাব্য। এ আরোহে দৃষ্টান্তের সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সদর্থক দৃষ্টান্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও নঞর্থক দৃষ্টান্তকে তেমন গুরুত্বই' দেওয়া হয় না। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বাস্তবতার মিল থাকে না। কোনো এ কারণে আমি মনে করি, দৃশ্যকল্প-১ ও ২ দ্বারা নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে বৈজ্ঞানিক আরোহ বেশি গ্রহণযোগ্য।