দৃশ্যকল্প-১ ও ২ এ নির্দেশিত আরোহ হলো যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ। নিচে বৈজ্ঞানিক আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ দুটির তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
প্রকৃত আরোহের গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রকরণ হলো- বৈজ্ঞানিক আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ। উভয় আরোহ অনুমানে আরোহমূলক লম্ফের মাধ্যমে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। পাশাপাশি উভয় অনুমান প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এর পরেও উভয় আরোহে বিভিন্ন বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন— বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ কারণে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে ldots অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ কারণে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত হয় সম্ভাব্য। অবৈজ্ঞানিক আরোহে সদর্থক দৃষ্টান্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও নঞর্থক দৃষ্টান্তকে তেমন গুরুত্বই দেওয়া হয় না। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না।
দৃশ্যকল্প-১ এ দেখতে পাই, পাখি, গরু ও মাছের গা কাটলে রক্ত বের হওয়া পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যে, সকল প্রাণীর গা কাটলে রক্ত বের হয়। এখানে 'সকল প্রাণীর গা কাটা' ও 'রক্ত বের হওয়া পদ দুটির মধ্যে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের মাধ্যমে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে এটি বৈজ্ঞানিক আরোহের একটি দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ দেখতে পাই, সকল বিল্ডিং সাধারণত ইট, বালি, সিমেন্ট ও রড দিয়ে তৈরি হয়। এখানে নঞর্থক দৃষ্টান্তকে উহ্য রেখে শুধু অভিজ্ঞতালব্ধ সদর্থক দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বিধায় এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহের একটি উদাহরণ ।
আলোচনা শেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ পরিলক্ষিত বৈজ্ঞানিক আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মাঝে বিভিন্ন দিক থেকে পার্থক্য থাকলেও উভয়ই প্রকৃত আরোহের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি প্রকার।