দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর অনুমান প্রক্রিয়ায় যথাক্রমে অসাধু সাদৃশ্যানুমান ও সাধু সাদৃশ্যানুমান লক্ষ করা যায় । নিচে অসাধু সাদৃশ্যানুমান ও সাধু সাদৃশ্যানুমানের বিষয় দুটির আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হলো—
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লেখিত সাদৃশ্যানুমানে ধানের জমির পরিমাণ, উভয় জমিতে ভালো ধান হওয়া এবং একই সাথে ধান পেকে যাওয়ার মতো অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যে একটি জমিতে একটি শেয়াল দেখা গেছে। তাই অপর জমিতেও শেয়াল দেখা যাবে। তাই এটি অসাধু সাদৃশ্যানুমানের একটি দৃষ্টান্ত। কেননা ধানের জমির পরিমাণ; উভয় জমিতে ভালো ধান হওয়া গুণের সাথে শেয়াল দেখার কোনো সম্পর্ক নেই । কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লেখিত সাদৃশ্যানুমানে তরুণদের একই পরিমাণ নীচু জমিতে পুকুর কাটা হয়েছে, এদের গভীরতা এক, পানির পরিমাণ এক এবং এদের একইভাবে পরিচর্যা করা হয়। একটিতে ভালো, মাছ চাষ হয়েছে। তাই অপর জমিতেও ভালো মাছ চাষ হবে। এখানে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে এটি সাধু সাদৃশ্যানুমানের একটি দৃষ্টান্ত।
যে সাদৃশ্যানুমানে আশ্রয়বাক্যের অমৌলিক, গুরুত্বহীন ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে । এ অনুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো বাহ্যিক, গুরুত্বহীন ও অজ্ঞাত হওয়ায় অনুপপত্তি বা যুক্তিদোষ ঘটে। এ কারণে এটি একটি লৌকিক প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, যে সাদৃশ্যানুমানে আশ্রয়বাক্যের মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়ের সাদৃশ্য বা মিল অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। অর্থাৎ, এ সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে কার্যকারণ নীতির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। .. তাই সাধু সাদৃশ্যানুমানের মূল্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি।
আলোচনা শেষে বলা যায়, অসাধু সাদৃশ্যানুমান প্রক্রিয়া ভ্রান্ত হলেও সাধু সাদৃশ্যানুমান নতুন তথ্য ও সত্য আবিষ্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।