আবদুস শাকুরের সিদ্ধান্ত তথা পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের তুলনা করা হলো।
উদ্দীপকে দেখতে পাই, আবদুশ শাকুর মামার বাড়িতে যাওয়ার সময় এক কেজি আম কিনে দেখল সংখ্যায় ৫টি। সেখানে প্রতিটি আম কেটে সবার সামনে রাখা হয়। দেখা গেল সব কটি আম মিষ্টি। তখন সে সিদ্ধান্ত নেয় তার কেনা সব আম হয় মিষ্টি। এখনে আবদুশ শাকুর কেনা আমের ৫টির মধ্যে প্রতিটিই যাচাই করে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ কারণে তার কার্যক্রমটি পূর্ণাঙ্গ আরোহের দৃষ্টান্ত। কারণ যে আরোহ অনুমানে প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণ করে সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। পূর্ণাঙ্গ আরোহ অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত। এ আরোহের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে আরোহমূলক লম্ফ থাকে না। তাই এর সিদ্ধান্তটি হয় নিশ্চিত সত্য।
যে আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে অর্থাৎ আরোহমূলক লম্ফের মাধ্যমে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে । যেমন— দার্শনিক কান্ট, হিউম ও কপি প্রমুখের মধ্যে 'জ্ঞানী' হওয়ার গুণ প্রত্যক্ষ করে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে, সকল দার্শনিক হন জ্ঞানী। এখানে 'দার্শনিক' ও 'জ্ঞানী' পদ দুটির মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে সার্বিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে এটি বৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত। বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ আরোহ ব্যাপক পরিসরে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে পারে যা প্রায় নিশ্চিত সত্য হয় ।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, পূর্ণাঙ্গ আরোহ অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত ও বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত হলেও উভয়ের সিদ্ধান্তই নিশ্চিত সত্য হয়।